আপনার ধীরগতির কম্পিউটারকে যেভাবে আরো ফাস্ট করবেন

নতুন সময়ে আমরা যখন কোনো কম্পিউটার ক্রয় করি তখন সেটা অনেক ফাস্ট থাকে। কিন্তু যত সময় যেতে থাকে ততো কম্পিউটার স্লো হয়ে পরে। আমরা চাইলেও এই স্লো হওয়াকে আটকাতে পারিনা। কারণ আমরা সবাই জানি নতুন সময়ের জিনিস সব সময় ভালো পারফরমেন্স দেই। কিন্তু আমরা চাইলে এই স্লো হওয়াকে কিছুটা আটকাতে পারি এবং কম্পিউটারকে কিছুটা ফাস্ট করে তুলতে পারি।

যেভাবে কম্পিউটার ফাস্ট করতে পারিঃ

১. ভাইরাস মুক্ত রাখা।
২. কম্পিউটারের C: ড্রাইভ ফাঁকা রাখা।
৩. টেম্পোরারি ফাইল গুলোকে নিয়মিত ডিলিট করা।
৪. ডেস্কটপ ফাঁকা রাখা।
৫. নিয়মিত কেসড এবং কুকিজ ফাইল ডিলিট করা।

ভাইরাস মুক্ত রাখাঃ

বলা যায় এটি কম্পিউটার স্লো হওয়ার পিছনের অন্যতম প্রধান একটি কারণ। তাই আমাদের কম্পিউটারে যাতে কোনো ভাবেই ভাইরাস আক্রমণ না করতে পারে সেটি আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য আমাদের এ্যান্টি-ভাইরাস ব্যাবহার করতে হবে। উইন্ডোজের সাথে ডিফল্ট যে এ্যান্টি-ভাইরাস(Windows Defender) আমরা পাই সেটিও অনেক ভালো এবং ফ্রি এ্যান্টি-ভাইরাস সফটওয়্যার। এর চেয়েও ভালো সার্ভিস নিতে হলে আমাদের পেইড এ্যান্টি-ভাইরাস নিতে হবে। যেমনঃ এভাস্ট, এভিরা, এভিজি, নরটন ইত্যাদি।

কম্পিউটার এর C: ড্রাইভ ফাঁকা রাখাঃ

কম্পিউটারের C: ড্রাইভকে সিসটেম পার্টিশন বলা হয়। এই ড্রাইভেই উইন্ডোজ ইন্সটল করা থাকে, তাই এই ড্রাইভকে একদম ভরে রাখা ঠিক না। কোনো সফটওয়্যার ইন্সটল ছাড়া এই ড্রাইভে দরকারি কোনো কিছু রাখা ঠিক না। কারণ যখন আমরা উইন্ডোজ দেবো তখন এই ড্রাইভটি ফরম্যাট করা লাগে তাই সব ফাইল ডিলিট হয়ে যায়। তাই সফটওয়্যার ইন্সটল করা ছাড়া প্রয়োজনীয় এবং অপ্রয়োজনীয় কোনো ফাইল এই ড্রাইভে রাখবোনা।

টেম্পোরারি ফাইল গুলোকে নিয়মিত ডিলিট করাঃ

টেম্পোরারি ফাইল কম্পিউটারের জন্য ক্ষতিকর বিশেষ করে কম্পিউটারকে আরো ধীরগতি করে তুলে। তাই আমাদের নিয়মিত এই টেম্পোরারি ফাইল ডিলিট করা উচিত। তার জন্য আমাদের একটি নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

  • প্রথমে Windows+R একসাথে প্রেস করুন অথবা All programm-এ সার্চ করুন Run
  • তারপর টাইপ করুন %temp% এবং ইন্টার প্রেস করুন ।

এই ফোল্ডারে যত ফাইল দেখতে পাচ্ছেন সেগুলো টেম্পোরারি ফাইল। এইগুলো ডিলিট করে দিন। যেইগুলো ডিলিট হবেনা সেগুলো Skip করুন। এইভাবে রান-এ টাইপ করুন temp, prefetch এবং এইগুলো সবই টেম্পোরারি ফাইল। যেগুলো আমাদের কম্পিউটার স্লো করে দিবে। তাই এই ফাইলগুলো ডিলিট করলে কম্পিউটার কিছুটা ফাস্ট হবে।

ডেস্কটপ ফাঁকা রাখাঃ

আমাদের কাজের সুবিধার্থে অনেক ফাইল ডেস্কটপে রাখি। এটিও একটি কম্পিউটার স্লো হওয়ার অন্যতম একটি কারণ। তাই আমরা সব সময় চেষ্টা করবো যাতে ডেস্কটপে খুব বেশি ফাইল না থাকে।

নিয়মিত কেসড এবং কুকিজ ফাইল ডিলিট করাঃ

কেসড এবং কুকিজ ফাইলও আমাদের কম্পিউটারকে ধীরগতি করে দেয়। আমরা যখন ইন্টারনেট ব্যবহার করি তখন বিভিন্ন সাইট ভিজিট করার মাধ্যমে এই ফাইল গুলো আমাদের কম্পিউটারে জমা হয়। যার কারণে আমাদের কম্পিউটার ধীরগতি হয়ে পড়ে। তাই আমাদের উচিত নিয়মিত এই কেসড এবং কুকিজ ফাইলগুলোকে ডিলিট করা। তার জন্য আমরা একটি সফটওয়্যার ব্যাবহার করতে পারি নাম সি-ক্লিনার

মূলত উপরের বিষয়ের কারণেই কম্পিউটার ধীরগতি সম্পন্ন হয়ে যায়। এছড়াও কম্পিউটারকে ফাস্ট করার জন্য আমরা আরেকটা পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারি। সম্পূর্ণ স্ক্রিনশটগুলো অনুসরণ করুন।

  • প্রথমে আমরা My computer or This PC তে রাইট ক্লিক করি
  • এরপর Properties-এ ক্লিক করিকম্পিউটার ফাস্ট
  • এরপর ক্লিক করি Advanced system settingsকম্পিউটার ফাস্ট
  • তারপর Advanced ট্যাবে ক্লিক করে Settings এ ক্লিক করুনকম্পিউটার ফাস্ট
  • Advanced ট্যাবে ক্লিক করে Change এ ক্লিক করুনকম্পিউটার ফাস্ট

এবার মূল কাজ। স্ক্রিনশট অনুযায়ী প্রথমে সবকিছু সিলেক্ট করে নিন। এরপর C: ড্রাইভ সিলেক্ট করে Custom initialize(MB)-এর যায়গায় আপনার কম্পিউটারের র‌্যামের সাইজ দিন (মেগা বাইটে) এবং Maximum size (MB)-এর যায়গায় কম্পিউটারের র‌্যামের দিগুন সংখ্যা দিন। তারপর Set-এ ক্লিক করে OK করে দিন। ব্যাস কাজ শেষ। এবার কম্পিউটারকে রিস্টার্ট দিন।

আশাকরি এইবার আপনার কম্পিউটার আগের তুলনায় কিছুটা হলেও ফাস্ট হয়েছে ।

আরো পড়ুনঃ

ওয়ার্ডপ্রেস সাইটের জন্য যেভাবে সাইটম্যাপ তৈরি এবং সার্চ কনসোলে সাবমিট করবেন

কোনো ফাইলের ভিতরের তথ্য সার্চ দিয়ে বের করবেন যেভাবে

কম্পিউটারে অতিরিক্ত ইন্টারনেট অপচয় রোধ করবেন যেভাবে

About Begiz

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: